বাংলাদেশের চারপাশে সাম্প্রতিক সময়ে যে সামরিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে, তা একেবারেই নজরকাড়া। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বঙ্গোপসাগরে ঘুরে গেছে, তার কিছুদিন পর রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজও সফর করেছে। ভারতের নৌবাহিনী এবং বিমান সবসময় সীমান্ত ও সমুদ্রপথে টহল দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট চাপ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূ-কৌশলগত খেলার প্রতিফলন। ১৯৭১ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যখন মার্কিন সপ্তম নৌবহর রাশিয়ার হুমকিতে ফিরে যায়। তবে আজকের পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন।
বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব
বঙ্গোপসাগর শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি ইন্ডো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূল কারণগুলো:
- বিশ্বের ৬০% বাণিজ্য এই সমুদ্রপথ দিয়ে যায়।
- চীনের বাণিজ্য করিডোর এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ।
- ভারতের নিরাপত্তা ও প্রভাব বজায় রাখার প্রয়োজন।
- মার্কিন ও রাশিয়ার কৌশলগত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের অবস্থান এটিকে একটি কেন্দ্রীয় ভূ-কৌশলগত সংযোগস্থলে পরিণত করেছে।
শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কর্মকৌশল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- চীনকে ব্যালান্স করার জন্য অঞ্চলে উপস্থিতি দেখাচ্ছে।
- সরাসরি হস্তক্ষেপ নয়; বরং কৌশলগত পজিশন প্রদর্শন।
- বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা দৃশ্যমান রাখা।
রাশিয়া
- রূপপুর প্রকল্পসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
- মার্কিন আগমনের প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করছে।
ভারত
- সর্বদাই প্রথম নজরদারি ক্ষমতা হিসেবে কাজ করছে।
- নৌবাহিনী ও বিমান টহল বৃদ্ধি, সীমান্তে শক্ত অবস্থান।
- মূল লক্ষ্য: আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রভাব বজায় রাখা।
১৯৭১-এর স্মৃতি vs বর্তমান বাস্তবতা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধক্ষেত্র।
- মার্কিন ও রাশিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল।
- আজ বাংলাদেশ স্বাধীন এবং কোনো যুদ্ধ নেই।
- বর্তমান পরিস্থিতি হলো বহুমেরু শক্তির মধ্যে কৌশলগত ব্যালান্সিং।
বাংলাদেশের করণীয়
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো সুষম কূটনীতি।
মূল স্ট্র্যাটেজি:
- যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে ক্ষেপানো যাবে না; সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে স্থিতিশীল কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে হবে।
- সমুদ্র ও সীমান্তে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
- সমুদ্রপথে নজরদারি ও ড্রোন/প্যাট্রোল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
সংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি “স্ট্র্যাটেজিক ব্যালান্সিং গেম”, যেখানে যুদ্ধ নয়, কৌশলগত প্রভাবই প্রধান।








Leave a Reply